Home / খেলাধুলা / মোস্তাফিজের ফেরা নিয়ে যত নাটক

মোস্তাফিজের ফেরা নিয়ে যত নাটক

প্রায় দেড় বছর পর সাদাপোশাকের দলে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাকে রেখেই টেস্ট দল দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ইচ্ছা-অনিচ্ছার দোলাচলের মধ্যে টেস্টের জন্য তাকে এক প্রকার বাধ্য করেছে ক্রিকেট বোর্ড।

টেস্ট খেলতে চান না বলে গত এপ্রিলে দেওয়া মোস্তাফিজের বক্তব্য থেকে আলোচানার শুরু। এরপর থেকে কোনো না কোনোভাবে আলোচনার তুঙ্গে ছিল বিষয়টি। কথা বলেছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট, পরিচালক হতে শুরু করে কোচরাও।

মোস্তাফিজ বলেছিলেন, ‘টেস্ট খেলতে চাই কি চাই না, এ নিয়ে ক্রিকেট বোর্ড জানতে চাইলে, তাদেরকেই নিজের ভাবনা জানাবো। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দলের বড় ভাইয়েরা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন। প্রয়োজনে আমিও বলবো। যদিও তিনি আমার বিষয়টি ভালো করেই জানেন।’

‘আমি লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশকে সার্ভিস দিতে চাইলে আমার ফিট থাকাটা জরুরি। এজন্য তিন সংস্করণের মধ্যে বেছে খেলাটাই সেরা উপায়। এক্ষেত্রে কোন ফরম্যাটে আমার সাফল্য বেশি, তা দেখে সংস্করণ বাছাই করছি’-আরও যোগ করেন মোস্তাফিজ।

একদিন না যেতেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছিলেন, ‘আমরা একটা ফরম দিয়েছিলাম কারা কোন ফরম্যাটে খেলতে চায়। সেখানে অনেকে তিন ফরম্যাট খেলবে বলেছে। মোস্তাফিজ কিন্তু টেস্টে নাম লেখায়নি। সে কিন্তু বলেনি টেস্ট খেলতে চায়। তবে ও বললো কি বললো না সেটা ব্যাপার না। আমাদের যখন দরকার সে অবশ্যই টেস্ট খেলবে। শ্রীলঙ্কা সিরিজে যদি দরকার হয় অবশ্যই সে খেলবে।’

এ ছাড়াও নানা সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মোস্তাফিজের টেস্টে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন নাজমুল। তবে সুর নরমও করেছিলেন মাঝে। তবে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। মোস্তাফিজ ইস্যুতে বলেছিলেন— ‘দেশ বড় নাকি টাকা বড়?’

সুজন বলেছেন, ‘সাদা বলে হয়তো টাকার ব্যাপারটা বেশি। আইপিএল খেললে হয়তো ২-৪ কোটি টাকা পাবে। ক্রিকেট কি টাকার চেয়ে বড় নয়? দেশ কি টাকার চেয়ে বড় নয়?’ এদিকে বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের মতে, মোস্তাফিজের টেস্ট খেলা না খেলা ‘পারসোনাল চয়েজ।’

বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ‘মোস্তাফিজের টেস্ট খেলার বিষয়টি সম্পর্কে বলা কঠিন। তারা একটি পথ বেছে নিতেই পারে। ইংল্যান্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট বলেছিলেন, ‘ক্রিকেটাররা একসময় ১২ মাস খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল, এখন সেটা কমে ৯ মাস।

মোস্তাফিজের ব্যাপারটাও ব্যক্তিগত পছন্দ। আমরা এটা নিয়ে বোধহয় তার সাথে কথা বলতে পারি। এটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যাপার।’ ২০১৫ সালে টেস্টে অভিষেক হলেও মোস্তাফিজ খেলেছেন মাত্র ১৪টি টেস্ট। সবশেষ খেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এবার লাল বলের চুক্তিতেও নেই এই পেসার।

বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ক্রিকেটের এই অভিজাত সংস্করণে খেলতে চান না। কিন্তু তাসকিন-শরিফুলরা ইনজুরিতে পড়ায় মোস্তাফিজের বিষয়টি সামনে আসে জোরালোভাবে। বিসিবি তাকে বার্তা পাঠায় টেস্ট খেলতে হবে। মোস্তাফিজ যদিও চাচ্ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত বিসিবির চাওয়াই পূরণ হলো।

Check Also

‘সাকিব অধিনায়ক, এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ’

নেতৃত্বের চাপে ব্যাটিংটাই ভুলে যাচ্ছেন মুমিনুল হক। এ কারণে শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.