Home / খেলাধুলা / ২২ বছর আগেও টেস্ট ব্যাটিং ছিল ঠিকঠাক

২২ বছর আগেও টেস্ট ব্যাটিং ছিল ঠিকঠাক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের রেকর্ড রয়েছে, আছে বীরের মতো লড়ে টেস্ট ড্র করার নজিরও। সেখানে এবার পারফরম্যান্স একদমই অনুজ্জ্বল, পরিণতিও করুণ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্টে ৭ ও সেন্ট লুসিয়ায় শেষ টেস্টে ১০ উইকেটের হার।

সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক মুমিনুল হকের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো। দলের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসানের কাঁধে তৃতীয়বারের মতো দায়িত্ব দেওয়া। কারও কারও ধারনা ছিল অধিনায়কত্বের চাপে ভুগতে থাকা মুমিনুলের বদলে সাকিব অধিনায়ক হওয়ায় হয়তো হাওয়া পাল্টাবে। টাইগাররা টেস্টেও বাঘের মতোই গর্জে উঠবে।

কিন্তু না! কিছুতেই কিছু হলো না। পারফরম্যান্সের গ্রাফ ওপরে ওঠেনি একটুও। বরং নিচে নেমেছে। দুই টেস্টের চার ইনিংসে বোলাররা তবু ক্যারিবীয়দের দুইবার অলআউট করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ব্যাটাররা চরম ব্যর্থ। একটিও সেঞ্চুরি নেই, হাফসেঞ্চুরি মোটে ৫টি। এক ইনিংসেও ৩০০ রান করা সম্ভব হয়নি। সিরিজে টাইগারদের সর্বোচ্চ স্কোর ২৪৫।

পারফরম্যান্স কি একটু বেশি খারাপ? নাকি সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের টেস্ট পারফরম্যান্স বিশেষ করে দেশের বাইরে এমনই অনুজ্জ্বল? এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনেই। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে সে প্রশ্নের চুলচেরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিয়েছেন দেশবরেণ্য ক্রিকেট বিশ্লেষক ও প্রশিক্ষক নাজমুল আবেদিন ফাহিম।

তিনি বলেছেন, ‘মনে হয় একটু বেশিই খারাপ খেলেছি আমরা।’ পর মুহূর্তে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আসলে এটাই এখনকার সত্যিকার চিত্র, ‘বাংলাদেশ এখন যেটা খেলছে বা খেলার চেষ্টা করছে- সেটা মোটেও টেস্ট ক্রিকেট নয়। বিশেষ করে ব্যাটিংটা মোটেও টেস্টের মেজাজ, রীতি, ধরন অনুযায়ী হচ্ছে না।’

ফাহিম পরিষ্কার বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটের একটা নিজস্ব ধরন রয়েছে। যে যাই খেলুক না কেন, তাকে সফল হতে হলে টেস্ট ব্যাটিংয়ের ধরন শতভাগ মেনে ও অনুসরণ করেই ব্যাট চালাতে হবে। ইচ্ছেমতো খেলে টেস্টে সফল হওয়া যায় না। ফাহিম দলিল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন টাইগাররা এখন যে ব্যাটিং করছে সেটা মোটেও টেস্ট ব্যাটিং নয়। তাই সাফল্য ধরা দিচ্ছে না।

তার কথা, ‘খালি চোখে মনে হয় একটু বেশি খারাপ খেলে ফেলেছি। সামগ্রিক পারফরম্যান্স দেখেও তাই মনে হচ্ছে। তবে পাশাপাশি আরও একটা কথা সাহস করে বলতে পারছি না যে, আমাদের টেস্টে বিশেষ করে দেশের বাইরে এখন এর চেয়ে খুব ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। সেটা এই কারণে বলতে পারছি না যে, আসলে টেস্ট খেলার যে সহজাত বৈশিষ্ট্য- তা আমরা দেখাতে পারছি না।’

দেশের অভিষেক টেস্টের প্রসঙ্গ টেনে কোচ ফাহিম বলেন, ‘ফিরে যান ২২ বছর আগে। আমরা প্রায় অপ্রস্তুত অবস্থায় শুরু করেও ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করেছিলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাট করিনি, ম্যাচ হেরেছিলাম। সবই সত্য।’

‘কিন্তু আমাদের শুরুর ব্যাটিংয়ের ধরন, প্রক্রিয়া, কায়দা ছিল শতভাগ পারফেক্ট। টেস্ট ব্যাটিংয়ের মেজাজ যেমন হওয়া দরকার আমরা তেমন শুরুই করেছিলাম। কিন্তু ২২ বছর পর এসে আমরা তা করতে পারছি না। আমরা এখন যে ব্যাটিংটা করছি, সেটা টেস্ট ব্যাটিং হচ্ছে না।’

‘ব্যাট চালনার মেজাজ, ধরন কোনোটাই টেস্ট উপযোগী নয়। টেস্ট ব্যাটিং মানে লম্বা সময় উইকেটে থাকার মানসিকতা নিয়ে নামা। আমরা সেই মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছি। ভুলে গেছি ঐ টেস্ট ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়ে না খেলে টেস্টে সফল হওয়া সম্ভব নয়।;

ফাহিম মনে করেন, টেকনিক বা স্কিলে বড় ধরনের সমস্যা বা ঘাটতি নেই। তার ব্যাখ্যা, ‘কেউ কেউ স্কিল-টেকনিক নিয়ে কথা বলছেন। আমি তা বলবো না। স্কিল-টেকনিক কম বেশি থাকতেই পারে। কিন্তু টেস্টে স্কিল-টেকনিকের চেয়ে মেজাজ, ব্যাটিংয়ের ধরন, ধৈর্য্য ও উইকেটে লম্বা সময় টিকে থাকার মানসিকতটাই বেশি জরুরি।

‘আমিনুল ইসলাম বুলবুল টেস্ট অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিল। তার ১৪৫ রানের ইনিংসটির কথা ভাবুন। দেখবেন কী অসীম ধৈর্য্য ছিল। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ধৈর্য্যকে পুঁজি করে গভীর মনোযোগ নিয়ে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকার কী জোর তাগিদ ও দৃঢ় সংকল্প ছিল বুলবুলের।

তারই ফল ছিল অসাধারণ টেস্ট সেঞ্চুরি। সব হিসেবনিকেশে যা ছিল আদর্শ টেস্ট ব্যাটিং। সত্যিকার টেস্ট শতক। এখন ঐ ব্যাটিংটার খুব বেশি অভাব। কেউ ওভাবে চেষ্টা করছে না। ভিন্ন পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। সেটা ভুল পথ। ঐ পথে হেঁটে টেস্টে সফল হওয়া সম্ভব না।’

Check Also

কেরানি থেকে আম্পায়ার হওয়া রুদি কোয়ের্তজেন আর নেই

দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতিমান আম্পয়ার রুদি কোয়ের্তজেন আর নেই। মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) তিনি এক মর্মান্তিক সড়ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.