Home / খেলাধুলা / ছাত্রীদের খেলা নিয়ে অপমানে মাথা ন্যাড়া করে শিক্ষিকার প্রতিবাদ!

ছাত্রীদের খেলা নিয়ে অপমানে মাথা ন্যাড়া করে শিক্ষিকার প্রতিবাদ!

চট্টগ্রামের এক স্কুলে কাবাডি খেলার জন্য মেয়েরা ফ্রেন্স বেনী করে চুল বাঁধার কারণে প্রধান শিক্ষিকা অপমান করায় স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা জাহিদা পারভীন নিজের চুল ন্যাড়া করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এলাকার ইয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার ওই শিক্ষিকা ক্ষোভে এমন প্রতিবাদ জানান। ঘটনার ৭ দিন পর ক্ষোভে চুল ন্যাড়া করেন এরপর ১৫ দিন পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন।

সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। কারণ মেয়েদের সাফজয়ের পর আনন্দ বন্যায় ভাসছে পুরো দেশ। আবেগাপ্লুত গোটা জাতি। জাহিদা পারভিন সময় সংবাদকে জানান, গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য ইয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ জন মেয়ের একটি কাবাডি দল করেন তিনি।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ওই মেয়েদের চুলের ফ্রেন্স বেনী করে একটি ছবি তুলেন। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নিপা চৌধুরী খেপে গিয়ে ছাত্রীদের বকাঝকা করেন এবং কয়েকজনের চুল ধরে টানাটানি করেন। এতে অপমানিত হয়ে অনেক মেয়ে কান্নাকাটি করেন।

শারীরিক শিক্ষার শিক্ষিকা হওয়ায় এমন ঘটনায় তিনিও অপমানবোধ করেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। রাগ আর ক্ষোভে ঘটনার ৭ দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিজের চুল ন্যাড়া করেন তিনি। সবশেষ ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ওই ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন ফেসবুকে পোস্টে জাহিদা পারভিন।

সহকারী শিক্ষিকা পারভীন তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফ্রেন্স বেনী করে ছবি তোলা হয়। খেলতে যাওয়ার অপরাধে আমার স্কুলে হেড মাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারে। ও বকা দেয়। এর প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে???’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পুনশ্চ: আমার মেয়েরা খেলার মাঠে খেলতে নামার অনুমতি পায়নি। স্কুলের সভাপতি আবার বর্তমানে চট্টগ্রামের সিডিএর চেয়ারম্যান এবং স্কুলটি উনার বড় আব্বার (বড় চাচা) নামে।’

ওই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় শাশ্বতী বিপ্লব নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মেয়েদের ফুটবল নিয়ে যখন দেশ আনন্দে ভাসছে; ঠিক তখনই চট্টগ্রামের এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খেলতে চাওয়ার অপরাধে মেয়েদের চুল ধরে মেরেছেন। প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও মেয়েরা মাঠে নামতে পারে নাই। এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়!’

সামিম শিকদার লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধায় প্রতিবাদ হোক।’ স্কুলশিক্ষিকা পারভীন জানান, তিনি স্বাধীনভাবে মেয়েদের নিয়ে কাজ করতে পারেন না। খেলার জন্য মেয়েদের নিয়ে কোনো টিম করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। স্কাউট করতেও দেয়া হয় না। কখনও মেয়েদের নিয়ে স্কুলের বাইরে যেতে পারেন না।

তিনি অভিযোগ তুলে জানান, স্কুলের সভাপতি বর্তমানে চট্টগ্রামের সিডিএর চেয়ারম্যান। তারপরও তিনি মেয়েদের নিয়ে কোনো কাজ করা অধিকার নেই। চুল ন্যাড়া করার পর তাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বারবার হুমকি দিচ্ছেন কেন ন্যাড়া করল চুল।

স্কুল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য তাকে বারবার চাপ প্রয়োগ করছে। তবে এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নিপা চৌধুরীকে ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি। পারভীন ২০১১ সাল থেকে ওই স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদুল আলম বলেন, তাদের কাজে এখনও বিষয়টি আসেনি। সরকারি নীতি বিরোধী কেউ কোনো কাজ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এটা তদন্ত করে দেখা হবে।

Check Also

সাকিব ভাই এসেছে, টিম পরিপূর্ণ: মিরাজ

আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.